কলকাতার কিছু ভূতুড়ে স্থান!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

১. ন্যাশনাল লাইব্রেরি: কলকাতার এই পুরোনো লাইব্রেরিটির দুর্নাম হয়েছে ভুতুড়ে কাজকলাপের জন্য। যারা যারা এখানে পড়াশোনা করতে যান তাদের অনেকের মতে, পড়াশোনা করতে করতে আচমকা ঘাড়ে অদৃশ্য কারোর নিঃশ্বাস অনুভব করেছেন। কেউ বা বলেন, নিস্তব্ধ দুপুরে অশরীরি কিছুর পায়ের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। লাইব্রেরির কর্মীরাও অনেকে অশরীরির উপস্থিতি টের পেয়েছেন। অনেকেরই মত হল, লর্ড মেটকাফের স্ত্রীর আত্মাই নাকি এখনও ঘুরঘুর করে লাইব্রেরির ভেতরে আর বাইরে।

২. মল্লিক ঘাট ও পাশের এলাকা: হাওড়া ব্রিজ এর নীচের মল্লিক ঘাট এর ফুল বাজারের পাশের ঘাটটিতে যারা রোজ যাতায়াত করেন তাদের অনেকের মতে, এই ঘাটে নাকি প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু ভূতুড়ে ঘটনা ঘটে। কোনও মহিলাকে সাদা শাড়ি পরে ঘুরতে দেখেছেন কিংবা মহিলার গলায় নাকি সুরে কান্না শুনেছেন— এমন দাবি অনেকেই করেন। তাদের মতে, গঙ্গায় ডুবে মারা যায় যাঁরা, তাঁদেরই আত্মা ঘুরে বেড়ায় এখানে।

৩. রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো: মেট্রোর লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা কলকাতায় নতুন কিছু নয়। আর সেইসব আত্মহত্যার ৮০ শতাংশই নাকি রবীন্দ্র সরোবর স্টেশনে ঘটেছে। সেইসব মরে যাওয়া মানুষদেরই আত্মা নাকি এই স্টেশনে রাতের দিকে ঘুরে বেড়ায়। রাত্রে এই স্টেশন থেকে শেষ মেট্রোতে চড়েন যারা তারা অনেকেই দাবি করেন, ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করার সময়ে এই স্টেশনে তারা বিভিন্ন ছায়া দেখেছেন।

৪. নিমতলা শ্মশানঘাট: কলকাতার অন্যতম প্রাচীন এই ঘাট। এত মানুষের শবদাহ হয়েছে এখানে তাই অশরীরি আত্মা থাকা এখানে স্বাভাবিক। বিশেষ করে, অমাবস্যা রাত্রে নানা অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন অনেকেই, এমনটাই লোকমুখে শোনা যায়।

৫. পুতুলবাড়ি: আহরিটোলায় অবস্থিত এই পুতুলবাড়ি। অনেকে এখনও এই বাড়িতে থাকলেও সন্ধ্যার পর নাকি দোতলা বা তিনতলায় ওঠার সাহস পান না। পুতুল এর বেশে কোনো মহিলার অতৃপ্ত আত্মাই নাকি ঘুরে বেড়ায় এ বাড়িতে। লোকের মতে, এক বিত্তশালী জমিদার নাকি এবাড়িতে মহিলাদের উপর ভীষণ ভয়ঙ্কর অত্যাচার করতেন।

৬. লোয়ার সার্কুলার রোড সেমেটারি: এই কবরস্থানটি ভূতুড়ে কান্ডকারখানার জন্য প্রসিদ্ধ। এখানকারই একটি কবরে শুয়ে আছেন স্যর উইলিয়াম হে ম্যাকনাটেন। স্যর উইলিয়াম প্রথম ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধে নির্মমভাবে নিহত হন। তাঁর ছিন্নভিন্ন মৃতদেহটি আফগানিস্তান থেকে নিয়ে এসে এই সেমেটারিতে কবর দেওয়ান স্যর উইলিয়ামের স্ত্রী। কথায় আছে, এখনও তাঁর কবরের কাছাকাছি কেউ গেলে উইলিয়ামের ক্ষুব্ধ আত্মার রাগে তাঁর কবরে ছায়া দেওয়া বিশাল গাছটি নাকি কাঁপতে থাকে।

৭. রায়টার্স বিল্ডিং: নতুন তৈরি প্রশাসনিক কাজকর্মের জন্য ব্রিটিশ সরকার রায়টার্স বিল্ডিংটি তৈরি করেছিল। এই খানে এমন অনেক ঘর হয়েছে যেগুলো এখনও খোলা হয়নি। নবান্নের আগে এই রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন ছিল এটি। এখানে নাকি বহু রহস্যজনক ঘটনা প্রায়ই ঘটে যেত। কথায় আছে, ব্রিটিশদের অত্যাচারের গল্প নাকি মহাকরণের দেওয়ালে দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে থাকে। মহাকরণের আশেপাশে যাদের বাড়ি, তারা বলেন, মাঝেমধ্যেই নাকি রায়টার্স বিল্ডিং থেকে হাড় হিম করা শব্দ শোনা যায়। এখনো অনেকেই সন্ধ্যার পর এখানে কাজ করতে চান না।

৮. হেস্টিংস হাউস: আলিপুরের হেস্টিংস হাউস এই শহর এর এক বিখ্যাত স্থান। ওয়ারেন হেস্টিংসের বানানো এই বাড়ি এক সময় ছিল গভর্নরের ঠিকানা। এখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা কলেজ রয়েছে এই বিল্ডিংয়ে। ছাত্রীরা বলেন, নানা ভুতুড়ে কাণ্ডকারখানা দেখা যায় বিল্ডিংয়ে। অনেকেই বলেন, এক ব্রিটিশ ব্যক্তি ও এক কমবয়সী ছেলেকে এখানে দেখা গিয়েছে। কিন্তু তাদের ধাওয়া করলেই নাকি তারা গায়েব হয়ে গিয়েছে সঙ্গে সঙ্গে।

পড়ে ভালো লাগল? খবরটি কেমন লাগল আমাদের জানান banglabuzz1234@gmail.com এ। আপনার আশেপাশের জানা-অজানা খবর শেয়ার করুন banglabuzz1234@gmail.com এ।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করার জন্য পাশের লিঙ্ককে ক্লিক করুন Facebook

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Comments: 0

Your email address will not be published. Required fields are marked with *